মেয়েদের বা ছেলেদের সবার কাপড় চোপড় ছাদে বা বারান্দায় শুকাতে দেওয়া হয়, এমনকি অন্তর্বাসও। গ্রামাঞ্চলে যদিও এখনো অন্তর্বাস গামছার বা তোয়ালের নিচে শুকানো হয়। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে, কিছু কিছু মানুষ আছে, শুকাতে দেওয়া এসব অন্তর্বাস দেখেই তাদের মাঝে তীব্র যৌন অনুভূতি তৈরি হয়। আবার অনেকে আছে মেয়েদের এসব অন্তর্বাস চুরি করে নিয়ে যায়। এরপর সেগুলো দেখে, স্পর্শ করে যৌন উত্তেজনা বোধ করে। অনেকে আবার মাস্টারবেশন করে বীর্য বের করে এসবের ওপর ফেলে। এটাকে এক ধরনের ফেটিসিজম বলা হয়। যদিও ফেটিসিজমের সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন।
ফেটিসিজম কী?
ফেটিসিজম এর আভিধানিক অর্থ বস্তুকাম; অর্থাৎ কোনো জড়ো বস্তু কিংবা মানুষের তৈরি / আবিষ্কার করা পদার্থ, কিংবা প্রাকৃতিক কোনো বস্তুর প্রতি যৌন উত্তেজনা বা কামভাব অনুভব করাকে ফেটিসিজম হিসেবে ধরা হয়! জড়ো বস্তু ছাড়াও, বিপরীত লিঙ্গের মানুষের বিভিন্ন অঙ্গের প্রতিও ফেটিসিজম থাকতে পারে, যেমন- পা, হাত, ঠোঁট, কান, চোখ ইত্যাদির প্রতি। ফেটিসিজমকে অনেকেই বিকৃত যৌনাচার হিসেবে ধরে নেয়। তো, বুঝতেই পারছেন, অন্তর্বাস দেখে যৌন অনুভূতি লাভ করলে সেটাও ফেটিসিজম এর মধ্যে পড়ে!
এমন আরও অনেক কিছু দেখে কেউ যৌন অনুভূতি লাভ করতে পারে। মেয়েদের চুল দেখেও অনেকে যৌন অনুভূতি পায়। এটাকে বলা হয় প্যারাফেলিয়া।
কিছুদিন আগে ঢাকাতে এক লোক ধরা পড়েছিল সে মেয়েদের জামা কাপড় কেটে দিত। এটাও এক ধরনের বিকৃত যৌনাচরণ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছে বিকৃত যৌন আচরণকারীদের বড়ো একটা অংশই শৈশবে নানান ভাবে যৌন আচরণের শিকার হয়েছিল। মানুষ তার সারাজীবনে যা শিখে তার অর্ধেক শিখে প্রথম দুই বছরে। বাড়িতে বেড়াতে এসে কেউ হয়ত তার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত রেখে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করত। শৈশবের কোনো এক মাস্টার মশাই হয়ত তার ভেতরে যৌন সুখ খুঁজে নিতেন।
ফেটিসিজম আসলে কোথা থেকে শুরু হয় এটাও বলা মুশকিল। তবে যেকোনো বিকৃত যৌনাচরণের নেপথ্যে যেটা থাকে তা হলো স্বাভাবিক যৌনতা এবং যৌন শিক্ষার অভাব।
আমাদের সমাজে মেয়েদের ব্রাও একটা ট্যাবু। এটা একটা গোপন জিনিস। স্বভাবগত ভাবেই মানুষ গোপন জিনিসের দিকে বেশি ঝুঁকে। সাধারণত যার ব্রা নিয়ে মাস্টারবেশন করা হয় মনে মনে তাকে কল্পনা করা হয়। এইসব মানুষ যে খুব বেশি অস্বাভাবিক আচরণ করবে তাও না। ধর্ষণ করতে উদ্যত হওয়া বা অন্য কিছুতে এদের সাহস নেই।
যদি কোনো সময় এমন হয় শুধু ব্রা অথবা প্যান্টি চুরি হয়ে যাচ্ছে তবে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ মানুষের বাইরের দিক থেকে কিছুই বোঝার উপায় নেই যে, কার মনে কী আছে!
বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছে এমন মেয়েদের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি থাকে। মেয়েদের মধ্যেও ফেটিসিজম দেখা দিতে পারে তবে এটার সম্ভাবনা খুবই কম। বেশির ভাগ বিকৃত যৌনাচরণ দেখা যায় পুরুষের মধ্যে।
সোর্স: উইকিপিডিয়া





Pingback: স্লিপিং প্যারালাইসিস - ঘুমের মধ্যে বিপদ! | বিজ্ঞান নিউজ | Biggan News