Home » সেরা ৬টি আইটি স্কিল!
সেরা ৬টি আইটি স্কিল!

সেরা ৬টি আইটি স্কিল!

চৌদ্দশ সালে যেমন শিল্প বিপ্লব হয়েছিল; এখন চলছে প্রযুক্তি বিপ্লব। তাই স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন এসেছে কর্মক্ষেত্রে। মানুষের অনেক কাজ থেকে মানুষকে ছুটি দিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। তো, এই প্রযুক্তির যুগে যদি আপনার আইটি স্কিল না থাকে, যেকোনো কাজেই আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে যাবেন। যুগের সাথে তাল মেলাতে এবং ভালো সেক্টরে, ভালো পজিশনে কাজ করতে চাইলে, আপনার অবশ্যই আইটি স্কিল থাকা জরুরি। তো, আজকের পোস্টে আমরা ব্রাইট ক্যারিয়ার গঠন করতে পারার মতো— সেরা ৬টি আইটি স্কিল নিয়ে আলোচনা করব। এগুলোর যেকোনো একটাতে আপনি দক্ষতা অর্জন করলে, ২০২৪ সালে আপনাকে আর বেকার বসে থাকতে হবে না! চলুন তাহলে শুরু করা যাক!

সেরা ৬টি আইটি স্কিল:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং [Artificial Intelligence & Machine Learning]:

এআই ও মেশিন লার্নিং বর্তমানের জন্য খুবই পপুলার স্কিল! কারণ পৃথিবী প্রায় সমস্ত কর্মক্ষেত্রেই এখন এআই ঢুকে গেছে; এভাবে চললে একটা সময় দেখা যাবে মানুষের আর কোনো কাজই করা লাগছে না, সব কাজ এআই দ্বারা করা হচ্ছে। তাই বর্তমানে এআই ও মেশিন লার্নিং এ মনোযোগ দেওয়া খুবই জরুরি! লিংকডইন এমার্জিং জব রিপোর্ট অনুসারে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগের হার চলতি বছর ৮০% হারে বেড়ে গেছে। আরেকটি গবেষণার সূত্রমতে, ২০২০-২০২৪ সালে মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৫০০ গুণ! এই সেক্টরে একজনের বাৎসরিক আয় গড়ে প্রায় ১-১.৫ লক্ষ ডলার! বুঝুন অবস্থা তাহলে! আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিংবা মেশিন লার্নিং হতে পারে আপনার নেক্সট বেস্ট ক্যারিয়ার সেক্টর!

➡️ আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়!

ক্লাউড কম্পিউটিং [Cloud Computing]:

অনেকগুলো কম্পিউটারকে একত্রে একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করানোর ধারণা থেকে মূলত ক্লাউড কম্পিউটিং এর যাত্রা শুরু। বর্তমানে, বিশেষ করে ২০২৪ সালে ক্লাউড কম্পিউটিং এর জনপ্রিয়তা একদম তুঙ্গে। অনেক বড়ো বড়ো কোম্পানি, ট্র্যাডিশনাল সার্ভার ছেড়ে ক্লাউড সার্ভারে শিফট হয়ে যাচ্ছে, অনেক হোস্টিং কোম্পানিই ক্লাউড হোস্টিং সেবা দেওয়া শুরু করেছে; এ ছাড়া এআই ও মেশিন লার্নিংয়েও ব্যবহৃত হয় ক্লাউড কম্পিউটিং। তাই এই স্কিল ডেভেলপ করতে পারলে, আশা করি ২০২৪ সালের মধ্যে আপনি ৬ ডিজিটের জব পেয়ে যাবেন!

সাইবার সিকিউরিটি [Cyber Security]:

সকল বিজনেস সেক্টরই ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজেশন হয়ে গেছে। আগামী দিনে এসব আরও ডেভেলপ হতে থাকবে! কিন্তু অফলাইনের মতো অনলাইনেও সবকিছুর সিকিউরিটির প্রয়োজন! কারণ, আমাদের লাখ লাখ টাকার একটা বিজনেস ওয়েবসাইট যদি হ্যাকারের হাতে চলে যায়, মাত্র ৫ মিনিটে আপনি মিলিয়নিয়ার থেকে ফতুর হয়ে যেতে পারেন! তাই অনলাইনে সকল বিজনেসেই সাইবার সিকিউরিটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে! ফলে তৈরি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ একটা কর্মক্ষেত্র! লিংকডইন এমার্জিং জব রিপোর্ট অনুসারে, সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগের হার চলতি বছর ৫০% বেড়েছে! তাই সাইবার সিকিউরিটি স্কিল ডেভেলপ করলে ২০২৪ সালে আপনাকে কর্মহীন থাকতে হবে না নিঃসন্দেহে!

অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি [AR and VR]:

এন্টারটেইনমেন্ট, এডুকেশন, হেলথ, ম্যানুফ্যাকচারিং, অ্যাডভার্টাসিং ইত্যাদি ইন্ডাস্ট্রিতে দিন দিন অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, ২০২৪ সালের মধ্যে অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মার্কেট সাইজ হবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি! এই নিশে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের হারও বেড়েছে তুমুলভাবে! তো, আপনি চাইলে ২০২৪ সালের জন্য খেয়ে নিতে পারেন আইটি সেক্টরের এই হটকেকটি!

ফুল স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট [Full Stack Development]:

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নতুন কোনো স্কিল নয়। যারা ফ্রন্ট-এন্ড ও ব্যাক-এন্ড ডেভেলপমেন্ট দুটোই পারে, তাদের ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার বলে! তবে স্কিল পুরোনো হলেও, ফুল স্ট্যাক ডেভেলপারের চাহিদা আগামী ১০০ বছরেও কমবে মনে হয় না! কারণ পৃথিবীতে বর্তমানে ১ বিলিয়নের বেশি সাইট আছে, প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়তেই আছে; নতুন নতুন বিজনেস অনলাইনে লঞ্চ হচ্ছে! আর ওয়েবে যা কিছু আছে, সবই হলো কিছু ওয়েবপেজ তথা ওয়েবসাইটের সমষ্টি, যা ডেভেলপারদের তৈরি। তো, প্রতিদিন লঞ্চ হওয়া নতুন নতুন সাইটগুলো ডেভেলপের জন্য দরকার ওয়েব ডেভেলপার! তাই যতদিন ওয়েবসাইট তৈরি হওয়া বন্ধ হচ্ছে না, ততদিন ফুল স্ট্যাক ডেভেলপারের চাহিদাও কমছে না! সাইট ছাড়াও অ্যাপ বা সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেও ডেভেলপার লাগে। ফলে, ফুল স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট শিখলে, ২০২৪ সালে আপনার বেকার থাকার প্রশ্নই আসে না!

➡️ আরও পড়ুন: জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম!

ব্লকচেইন [Blockchain]:

২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের কেউ একজনের বিটকয়েন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ব্লকচেইন টেকনোলজির যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই থেকে ব্লকচেইনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বইকি কমছে না! ইতিমধ্যে ব্লকচেইনকে বেস করে মার্কেটে লঞ্চ হয়েছে শত শত ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং সেগুলো ভালোভাবেই কাজ করে যাচ্ছে! হায়ারড এই তথ্যমতে, একজন ব্লকচেইন ইঞ্জিনিয়ারের বাৎসরিক আয় দেড় লক্ষ ডলারেরও বেশি! তো, ব্লকচেইন প্রযুক্তিও আপনার আইটি বেস ক্যারিয়ারের জন্য হতে পারে— সোনার ডিম পাড়া মুরগি!


প্রিয় পাঠক, এই ছিল— সেরা ৬টি আইটি স্কিল সম্পর্কে বিস্তারিত। আজকের পোস্ট এতটুকুই! এধরনের আরও পোস্ট পেতে বিজ্ঞান নিউজে চোখ রাখুন!

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন: